ক্যাডেট কলেজ -২০৫০ (প্রথম কিস্তি)

[এই লেখাটা মাশরুফ কে উৎসর্গ করা। এই লেখার থিম ও আমাকে দিয়েছে। কেউ যদি এই লেখা চালাতে চাও আমার আপত্তি নাই। তবে কেউ নাই মনে হয় ঐরকম]

-“ক্যাডেট মাশরুফ আপনি প্লিজ হলুদ বক্সের ভিতরে এসে দাড়ান”
ঘড়ঘড়ে একঘেয়ে যান্ত্রিক গলা শুনেই মেজাজটা খারাপ হয়ে গেল মাশরুফের। শালার বাসা থেকে কলেজে ঢুকার সময়ে এই চেকিংটা না হলেই কি নয়? নতুন ৯ এ উঠেছে ও। কত কিছু যে এইবার নিয়ে এসেছে। না ধরা পড়লেই হয়। চেকের আবার কত রকম বহর দেখ না। যান্ত্রিকভাবে স্ক্যান হবে ওর সারা দেহ। ব্যাগ হবে আরেক জায়গায়। আগে এক সময় নাকি পোলাপান গায়ের মধ্যে বেধে দুষ্টু বই কলেজে ঢুকাতো। গত মাসে রিইউনিয়নে এক ভাইয়া এই কথা বলে গেল। ওরা সবাই হা হয়ে গেছে ওদের এত আরাম দেখে। তখন নাকি স্টাফ বলে একটা জিনিস ছিল ওনারা চেক করত। শালার তাহলে কি আর ওকে এত ভাবতে হয় কিভাবে জিনিস ঢুকাবে। এইসব ভাবতে ভাবতেই হলুদ বক্সের ভিতরে দাঁড়াল ও। তারপর

বৃষ্টি দিনের গল্প

হঠাৎ করেই বৃষ্টিটা নামলো। আষাঢ়ে ঝুম বৃষ্টি। অফিসে যাবো বলে নিচতলায় দাঁড়িয়ে ড্রাইভারের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। রহমান মিয়া মাত্র দু মাস আগে কেনা গাড়িটা গ্যারেজ থেকে বের করে এনে নিঃশব্দে আমার সামনে এনে দাঁড় করালো। গাড়ির দরজা খুলে পাশে দাঁড়িয়ে রইলো মুখ নিচু করে। রহমান মিয়া আমার দিকে কখনো চোখ তুলে তাকিয়ে কথা বলেনা। সে আমাকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা করে। এবং সবচেয়ে আশ্চর্যের ব্যাপার আমাকে সে বেশ ভয়ও পায়। ব্যাপারটা খুব ইন্টারেস্টিং। একটা বড় সড় গোছের চাকরিই করি। অধঃস্তন কর্মচারীরা আমাকে দেখে ভয় পাবে,একটু ভুরু কুচকে চাইলেই তোতলানো শুরু করবে;এসির হিমহিমে ঠান্ডা রুমে দাঁড়িয়ে পকেট থেকে রুমাল বের করে টেনশনে জমে ওঠা কপালের বিন্দু বিন্দু ঘাম মুছবে- এমন কিছু হওয়া আশ্চর্যের নয়।বরং খুবই স্বাভাবিক। বাকিটুকু পড়ুন

আত্মার ডায়রি থেকে: শুধু একটু আদর

১.

“” আমার ভালবাসা, আমার প্রাণপ্রিয়,

এত আনন্দ আমি কীভাবে যে তোমাকে বোঝাব! কোনো ভূমিকা ছাড়াই বলছি, তোমার একটা মেয়ে হয়েছে, একেবারে চাঁদের মত সুন্দর। তুমি বাবা হয়েছ, আর আমি – মা। জানো লক্ষ্মীটি, তোমার মেয়ে একেবারে তোমার মত হয়েছে, তোমার মত ওর কপালের ডানপাশেও একটা তিল আছে। কিন্তু মেয়েটা সারাক্ষণ শুধু কাঁদে, মনে হয় বাবার আদর পেতে চায়। please লক্ষ্মীটি, জলদি চলে আস। জলদি ,জলদি………..। আরও

যেদিন চলে এলাম

আমাদের হাউজের সামনে থেকে শুরু করে একেবারে একাডেমি ব্লক পর্যন্ত লাইন। কলেজ জীবনে কোনদিন চোখে পড়ার মত কিছু করিনি। আমার মতো ছেলেদেরকে সবার চোখে পড়িয়ে দেয়ার জন্যই বিদায় বেলার এ আয়োজন, তখন এমনটিই মনে হচ্ছিল। একে একে সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে যখন ক্লাসমেটদের মাঝে আসলাম তখন অনুভূতিটা কেমন ছিল মনে নেই। কারণ মনে রাখার মতো কোন অনুভূতি হচ্ছিল না।
কলেজ মসজিদের সামনেই আমাদের গাড়িটা পার্ক করানো। আব্বু-আম্মু কেউ আসে নি, আসার কারণও নেই। বয়স তো আর কম হয়নি আমার। ড্রাইভার বদলুল ভাই মুখে চিরাচরিত সেই হাসি মেখে বলেছিলেন,
– কেমন আছেন ভাইজান? আরও পড়ুন