চোথা মারা পোস্ট

নিরানব্বই সালের ৩রা জুন, আমার অদ্ভুত একটা ফিলিং এর জন্ম হলো, সারা কলেজ ঘুরাঘুরি করে আসার পর প্যারেড গ্রাউন্ডে ওস্তাদজীরা (আমরা স্টাফদের ওস্তাদজী বলতাম) আমাদের ফল ইন করে দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন। আম্মু আব্বু একটু দূর থেকে হাসিহাসি মুখ করে খাকি ড্রেস পরা নিজের মেয়েকে দেখছে, লাইন ধরে দাঁড়িয়ে আছে, বিশাল গর্বের ব্যাপার। আমি তখনো বুঝিনাই এখুনি আমাকে আলাদা করে দেবে। হঠাৎ দেখি বলে উলটা ঘোর, জলদি চল। দেখি আম্মু আব্বু দূরে চলে যাচ্ছে, দুই একজন _ শুরু করে দিয়েছে, পিনপিনে আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে।

হঠাৎ করে আমি বুঝতে পারলাম আমার আম্মু আব্বুর সাথে আর দেখা হবে না। আমার মাথাটা একটু খানি ঘুরে উঠলো, আরি, আমি তো আল্লাহ হাফিয বলি নাই! আম্মুর আদর নেই নাই! আমি এখন যাইতে চাই না, চাই না, না।

অনেক দিন পর, ২০০৫ সালে আবার ঠিক একই অনুভূতিটা জন্ম নিলো, নতুন করে কিন্তু ঠিক একই ভাবে। আরও পড়ুন

দুই লাইন

আমার কেমিস্ট্রি ভিতী কলেজ বিখ্যাত। এক কেমিস্ট্রি পরীক্ষার আগে অনেক রাত পর্যন্ত পড়ে ঘুমিয়েছি, ভোরে তাসনীম  ডাক দিল, স্যাম উঠ, দেখ সকালটা কত সুন্দর।

আমি নাকি বলছি, কার্বন ঢেলে দে পানি হয়ে যাবে।

সিমেট্রিক

ক্লাস ইলেভেনর প্রথম পরীক্ষা। ক্লাসে মোটামুটি সবাই ফেল করসে। ভিপি ম্যাডাম ছয় জেপিকে ডেকে পাঠালেন। অনেক্ষন চেচামেচি করে ঝাড়ি দেয়ার পর কি যেন একটা সন্দেহ হলো উনার।

 -তোমাদের কি অবস্থা? তোমরা পাশ তো?

এ ওর মুখ চাওয়াচাওয়ি করলো।

-কি?? (আবার চিৎকার)

তিনজন তিনজন করে সমান দুই ভাগে ভাগ হয়ে গেলো জেপিরা, প্রতি হাউস থেকে একজন করে পাশ, একজন করে ফেল। যারা পাশ করেছে তাদের মুখে বিব্রতভাব। ম্যাডাম বোধহয় এত সুন্দর ডিসিপ্লিন খুব কম দেখেছেন জীবনে।

খাতা পর্ব

খাতা নিয়ে কিছু কথা…আর কিছু মনে পড়ছে না, অন্যান্য কলেজ গুলো এটাকে টেনে নিয়ে যাবে আশা করি।

সাধারণ জ্ঞান একটা পরীক্ষা হত, ফর্ম ক্লাসে। নম্বর যোগ হত না। সুতরাং এইখানে ক্যাডেটদের অপিরিসীম জ্ঞানের সুবিশাল ভান্ডারের খোজ পাওয়ার পরম সৌভাগ্য লাভ করতেন শিক্ষকেরা।

*পৃথিবীর দ্রুততম মানবী কে? আরও

ট্রেন্ড

গার্লস ক্যাডেট কলেজে পানিশমেন্ট বয়েজদের চেয়ে তুলনায় অনেক কম। স্যার ম্যাডামরা মনে হয় মনে করতেন একটু মাইর খাইলেই মেয়েরা কেন্দে দিবে…আমাদের ফ্রন্টরোল ট্রন্টরোল কিচ্ছু নাই, ছিলো যা তা হলো ডিপি, ইডি… যেইটা বয়েজদের কাছে ডালভাত। তবে আমাদের একটা ডিপি খাওয়া মানে একদম মার্কামারা হয়ে যাওয়া, (এবং ক্যাডেটদের কাছে হিরোইন 😀 হয়ে যাওয়া)।

এহেন বোরিং অবস্থায় আমরা নিজেরাই  কিছু জিনিসপাতি খুজে নিতাম আনন্দের জন্য। জুনিয়রদের সুপারম্যান পানিশমেন্ট, মোটরসাইকেল পানিশমেন্ট ইত্যাদি নিত্যনতুন উপায়ে নাস্তানাবুদ করতে চাইতাম। পানিশমেন্টের ক্ষেত্রে ছেলেদের শারিরীকভাবে মাইরধর করলে কাজ দেয়, আর মেয়েদের জন্য  বিশাল ঝাড়িতেই কাজ শেষ(বেশির ভাগ ক্ষেত্রে!)। তার উপর যদি কাউকে গম্ভীর ভাবে বলা হয়,

“হু, এখন মোটরসাইকেল স্টার্ট দাও (মানে তাকে মোটরসাইকেলে চড়ার ভাব করতে হবে, তার পর ঘর ঘর করে মুখ দিয়ে সাউন্ড করে হাত দিয়ে চাবি ঘুরানোর ভাব করে স্টার্ট দিতে হবে, তার পর ব্লক দিয়ে দৌড়াতে হবে)” আরও

হাবিজাবি


ব্লগের মরা অবস্থা দেখে মাঠে নামসি। কিন্তু লিখতে তো পারিনা, ভালো পড়তে পারি। আচ্ছা কয়েকটা ঘটনা লিখি।

১। একজন ক্লাসে ঘুমাচ্ছিল, সে চশমা পড়ে। হঠাৎ স্যার (কেমিস্ট্রির অত্যন্ত বিখ্যাত এবং আমাদের অত্যন্ত পছন্দের স্যার), পড়া বন্ধ করে ওর দিকে এক দৃষ্টিতে খানিক্ষন তাকায় থাকলেন, তাও ওর ঘুম ভাংলো না। উনি আস্তে আস্তে আগায় যাচ্ছেন, এরপর কি হইল?

ক্যাডেট

আজকে শাকুর মজিদ স্যারের বইটা পরতেসিলাম, “ক্লাস সেভেন, ১৯৭৮”। মাঠে বসে আছি, সামনে খেলা হচ্ছে। eee করসে ২২২, আর আমাদের ডিপার্টমেন্ট সর্বসাকুল্যে ৬৫ করে অলআউট।
পাশ থেকে ডিপার্টমেন্টের এক বড় ভাই জিজ্ঞাস করলেন -“কি পড়?” দেখালাম।
-কেমন?
একটুক্ষণ ভাবলাম, ক্যাডেটদের খুবই ভাল্লাগবে অবশ্যই, কিন্তু নন-ক্যাডেট যারা তাদের? ভাষাটা খুব ফ্লুয়েন্ট না, সামান্য জড়তা আছে। তাই বললাম, জ্বী ভাইয়া, আছে ভালোই। আরও পড়ুন